দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক নারী, তার কন্যাশিশু এবং একটি শিশু রয়েছে। এসব হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় এক নারী ও তার কন্যাশিশু নিহত হন। হামলায় তাঁবুগুলো এবং বাস্তুচ্যুতদের মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এর কিছুক্ষণ আগে একই এলাকার সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ২৭ জন আহত হন। আহতদের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স, কুয়েতি হাসপাতাল ও আল-মাওয়াসি ফিল্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলের বানি সুহেইলা রাউন্ডঅ্যাবাউট এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি জটলার ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত এবং এক কিশোরী আহত হয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের আল-বারাকা সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি জটলাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এ সময় ভারী গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের সালাহ আল-দিন সড়কে ইসরায়েলি সামরিক যান অগ্রসর হয়ে গুলিবর্ষণ ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ চিহ্নিত কংক্রিটের ব্যারিয়ার সরিয়ে প্রায় ১৫০ মিটার পশ্চিমে ওয়াদি গাজা সেতুর দিকে নিয়ে গেছে। সোমবার সকালে ওই সড়কে নতুন কংক্রিট ব্যারিয়ারও দেখা গেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এ অঞ্চলগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় এক হাজার ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং তিন হাজার ৩৮০ জন আহত হয়েছেন। আহত ও নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৩ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে।
সূত্র- টিআরটি ওয়ার্ল্ড
জে আই